মেঘের রাজ্য সাজেক ভ্যালি

কাছে থেকে মেঘপুঞ্জ গুলো কে অনুভব করতে চান? সকালের পাখি ডাকা সেই ভোরের শীতল আবহাওয়া কে একেবারে খুব কাছে থেকে পাওয়ার সঠিক জায়গা হলো "মেঘের রাজ্য সাজেক ভ্যালি"।

কিভাবে যাবেনঃ সাজেক ভ্যালি যদিও রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত কিন্তু সেখানে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত রাস্তা হলো খাগড়াছড়ি দিয়ে যাওয়া। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়িগামী যেকোনো বাসে আপনি চলে যেতে পারেন অনায়েসে। খাগড়াছড়ি থেকে সকালে চান্দের গাড়ি তে করে চলে যাবেন সাজেক। খাগড়াছড়ি থেকে মূলত ২.৩০-৩.০০ ঘন্টা সময় লাগে সাজেক যেতে । আঁকা বাঁকা পাহাড়ী পথ আপনাকে যেই অসাধারন এক রোমাঞ্চকর ভ্রমণের স্বাদ উপহার দিতে আশা করি তা আপনি কখনো ভুলবেন না ।

         
মেঘের রাজ্য সাজেক ভ্যালি
কোথায় থাকবেনঃ সাজেকে এখন থাকার জন্য প্রচুর আদিবাসী রিসোর্ট আছে। এইতো ২-৩ বছর আগেও এইসব রিসোর্ট এর সংখ্যা ছিলো হাতেগোনা। তখন আদিবাসীদের বাড়িতেই রুম ভাড়া পাওয়া যেত কম খরচে। যদিও এই রিসোর্ট গুলো আপনাকে সেই আদিবাসীদের বাড়ির কিছুটা ফিল দিবে। সাজেকের মজাটা শুরু হবে রাতে থেকে। অসম্ভব সুন্দর এক পরিবেশ আর সাথে যদি জোছনা পেয়ে যান তাহলে তো সোনায় সোহাগা। আর সবথেকে অসাধারণ সেই অপরুপ সকাল , যার ছবি দেখেই আপনি এখানে এসেছেন। এককথায় এর আসলে তুলনা হয়না।

কি/কোথায় খাবেনঃ এখন মোটামুটি হোটেলের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু সেখানে খাওয়ার জন্য আপনার যা করতে হবে তা হলো আপনি যেই খাবার খাবেন তা আগে থেকেই অর্ডার করতে হবে। খাবারের মেন্যু ভালো এবং দাম খুব একটা বেশী না। কিন্তু অবশ্যই একটু দামাদামি করে নিবেন। এখানের নামীদামী খাবার হলো ("ব্যম্বু চিকেন") মুরগী রান্না করে বাশের খোলে রাখা হয়। এছাড়াও বনমুরগীর মাংস ভুনাও পাবেন।

কি কি ঘুরে দেখতে পারবেনঃ আপনি যদি শুধু সাজেক দেখেই চলে আসতে চান তাহলেও ভালো কিন্তু যেহেতু এসেই পড়েছেন তাই সাথে আরো কিছু জায়গা ঘুরেই দেখে যান , নাহলে তো চলে যাওয়ার পরে কষ্ট লাগবে যে কেনো দেখে গেলেন না। যেমনঃসাজেক থেকে আসার পথেই হাজারছড়া ঝর্ণা । তেমনি একটা রাত খাগড়াছড়ি থেকে গেলে আরো অনেক কিছুই দেখতে পারবেন।

#সাজেকে যা দেখবেন---
       *কংলাক পাড়া ,
       *রুইলুই পাড়া ,
       *হাজারছড়া ঝর্ণা

#খাগড়াছড়ি তে যা দেখবেন----
        *আলুটিলা গুহা,
        *রিসাং ঝর্ণা,
        *তারেং,
        *ঝুলন্ত ব্রিজ।

খরচঃ কি মনে হচ্ছে ? অনেক টাকার ব্যাপার? আরে না!!!! এইসব কিছুই আপনি ঘুরে দেখতে পারেন মাত্র ৪০০০ টাকার মাঝেই (অবশ্যই একটা ৬-৭ জনের গ্রুপ এর জন্য, ২-৩ জন হলে কিছু বেশী পরবে। চান্দের গাড়ির ভাড়া টা একটু বেশী। রিজার্ভ নিতে হয় তো ) ।

তো দেরি না করে আজই ঘুরে আসুন আর দেখে নিন আমাদের দেশের এই অসীম সুন্দর জায়গা ।

বিঃ দ্রঃ শীতের শুরুতে গেলে মজাটা বেশী পাবেন।

যেকোনো ধরনের তথ্যের জন্য কমেন্ট করুন এবং ভালো লাগলে শেয়ার ও কমেন্ট করে জানাবেন।
ধন্যবাদ

Post a Comment

0 Comments